অন্যমনে সাহিত্য. অন্য রকম দৃষ্টিকোন থেকে দেখা একটি প্রতিবিম্ব ভাবনা .. অন্যমনে সাহিত্য.

অমিতাভ মীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অমিতাভ মীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

উই কান্ট ব্রেদ




উই কান্ট ব্রেদ
=============================
অমিতাভ মীর
=============================


বর্ণবাদের বিষাক্ত বাতাসের প্রভাবে শতাব্দী আগে
কঁকিয়ে উঠেছিলো মানুষ-, "উই কান্ট ব্রেদ।"
যে সময়ে সভ্যতা ও প্রযুক্তি আকাশের প্রান্ত ছুঁতে চলেছে;
তখনও, মানুষ অবলীলায় অস্বীকার করছে মনুষ্যত্বকে।
এখনও মানুষকে বর্ণবাদ শ্বাসরুদ্ধ করে মারে,
বর্ণবাদ বিরোধী বিশ্ব মোড়লের নিজেরই আঁতুড় ঘরে।
মার্টিন লুথার কিংকে হত্যার মধ্য দিয়েই
অমানুষের যে উত্থান হলো এ বিশ্ব চরাচরে;
এর দায় মানুষ কি পারবে এড়াতে?
মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ দারেক চাউভিনের হাঁটু ঠেসে ধরলো
মিনিয়াপলিসের রাজপথে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের গলা,
কঁকিয়ে উঠেছিলো ফ্লয়েড; 'ওহ্ গড! আই কান্ট ব্রেদ'। কি অমানবিক!
ফুঁসে উঠেছে জনতা, বিক্ষোভে উত্তাল মার্কিন সাম্রাজ্য,
প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের পথেই অপশক্তি হটতে বাধ্য।
বাঘের খাঁচায় ছুঁড়ে দাও অমানুষ দারেক চাউভিনকে,
দেখুক মানুষ মনুষ্যত্বহীনের করুণ পরিণতি; বুঝে নিক
অমানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নেই নন্দিত নিসর্গে।

শনিবার, ৩০ মে, ২০২০

জ্বলন্ত চিতার ওপর দাঁড়িয়ে

জ্বলন্ত চিতার ওপর দাঁড়িয়ে
============================
অমিতাভ মীর
===========================

মানুষের অর্বাচিন ফল জ্বলে প্রকৃতির ক্রোধানল,
আঁধার এসেছে নেমে যাবে বুঝি থেমে ধরণীর কোলাহল
বেহুঁশ মানুষ পুড়িয়েছে পৃথিবীর ফুসফুস খেয়ে আদাজল
গিরি নদী খাল গণিমত মাল চারদিকে হলাহল।
ভূপৃষ্ঠের মাটি আর নেই খাঁটি পৌরবর্জ্যে সয়লাব,
আগাছানাশী বিষ জমিতে মিলমিশ দুষণীয় দাব।
টনে টনে পলিথিন মৃত্তিকার বুক প্রাণহীন,
জলের বুকে আগ্রাসী পলিথিন নদীধারা স্রোতহীন।
তেল কয়লার ধোঁয়া বিষভরা ছোঁয়া ফুসফুস ধরাশায়ী,
প্রকৃতির দান তার তিল পরিমান কৃতজ্ঞতা অনাদায়ী।
নিজের ফাঁদে পড়েছো ধরা মানুষের বেশধারী,
লোভের উদর ভরেছো ভরপুর এখন কেন আহাজারি?
বৃক্ষ-তরু-লতা প্রকৃতির অক্সিজেন কারখানা,
হচ্ছে নির্বিচারে অরণ্য উজাড় কেউ করছো না মানা।
যাদের ওপর রক্ষার রয়েছে ভার তারাই দখলদার,
পরিবেশ ধ্বংসের দায় এড়ানো কি যায় দিব্যি কার মাথার?
মনুষ্য কর্মের অর্বাচীন ফল প্রকৃতি ছুঁড়েছে প্রতিফল,
এক এক করে চোখের গোচরে থেমে যাবে সব কোলাহল।
পরিবেশ বিনাশ প্রতিবেশে বিলাস এমন দ্বিচারী দ্বিপদী মানুষ,
জ্বলন্ত চিতার ওপর দাঁড়িয়ে থেকেও ফেরে না আমাদের হুঁশ।
পারমাণবিক বর্জ্য কোথায় করেছো ত্যাজ্য সে খবর দিও,
কি কারণে ধরা উত্তপ্ত মারণে কারা সিদ্ধহস্ত নামগুলো নিও।
লোভের পাপে ধরণী কাঁপে পারদ চড়েছে তাপে,
মনুষ্য ক্ষমতা কত না ঠুনকো বোঝা গেল এক ভাঁপে।






চন্দ্র বিজয়ের পর মঙ্গলে বসতি উর্ধ্বে রকেটের গতি,



ধ্বংস বিনাশে চনমনে মন মানবতায় নেই মতি।



মানুষ মারতে মারণাস্ত্র নির্মাণের বিশাল সে আয়োজন,



দেশ দখলের অজুহাতে হেসেখেলে মানবতা বিসর্জন।







দেশে দেশে জাগে নব্য স্বৈরাচার গণতন্ত্র নির্বাসনে,



ক্ষমতার লোভ লকলকে জিভ পরিণাম ভয় নেই মনে।



হাত আয়নায় যাকে প্রতিদিন দেখ তার কথা মনে রেখো,



অশরীরী ছায়া ধ'রে কার কায়া একবার তাকে ছুঁয়ে দেখো।







দিগদারি তোমার কতখানি অসার বুঝবে তা কবে বলো,



মদমত্ত ক্ষমতার খুঁটি এক ঝাঁকুনিতে কেন নড়বড়ে হলো?



ক্ষমতার দাপট দেখাতে বিবেক দিয়েছো বিসর্জন,



অতিক্ষুদ্র ভাইরাস তার কাছে শেষে অসহায় আত্মসমর্পণ।