অন্যমনে সাহিত্য. অন্য রকম দৃষ্টিকোন থেকে দেখা একটি প্রতিবিম্ব ভাবনা .. অন্যমনে সাহিত্য.

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

বৃক্ষরূপী মানুষ

বৃক্ষরূপী মানুষ
=================
রথীন পার্থ মণ্ডল
=================


মাঝে মাঝে নিজেকে কেমন একটা বৃক্ষের মতো মনে হয়। বরফ ঢাকা পাহাড়ি গাছ। ঋজু সুঠাম নধর দেহে দাঁড়িয়ে আছি। এখুনি কোথাও থেকে একটা ষাঁড় এসে গুঁতিয়ে দিলেই হয়তো হুড়মুড়িয়ে পড়ে যাবো। তাই কি? সত্যি সত্যিই কী পড়ে যাবো না কি? কী জানি, তবে একেবারে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে যাবো না বলেই মনে হয়।


আসলে গাছেদের তো শিকড় থাকে। মাটিতে ছড়িয়ে থাকে তার বাহু। কামড়ে ধরে থাকে মাটি।

আমিও তোমাকে...

সারমেয় কথা


সারমেয় কথা
=============================
রথীন পার্থ মণ্ডল
=============================


আবার গেলাম রতনদের বাড়ি। দরজা পেরিয়ে উঠোনে প্রবেশ করলাম। রতনের মা যেন দেখেও দেখল না। দূর দূর করে তাড়িয়েও দিল না। আর কেনই বা দেবে? ক্লান্ত হয়ে গেছে তাড়িয়ে দিতে দিতে। আমিও আর এঁটো থালাতে মুখ দিলাম না। আর দরকারও হবে না। তাই চলে এলাম। ঐ তো সেই ছেলেটা, যে রোজ আমাকে পাথর ছুঁড়ত। যাক বাবা, আজ বোধহয় আমাকে দেখতে পায়নি। কোনোরকমে সাবধানে চলে এলাম মিষ্টির দোকানটাতে। কত যে গরম জল, গরম তেলের ছ্যাঁকা খেয়েছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই। আজ তারাও কিছু করল না। বোধ হয়, আমার ওপর 'দয়া' হয়েছে।

ওই তো চারমাথার মোড়। কিন্তু আমি কোথায় গেলাম? ওই তো পেয়েছি। ওহ, বাবা রে! দশ চাকার লরি, তাও আবার মাল বোঝাই। আর বাঁচি! পুরো পিষে দিয়ে চলে গেছে। নাহ, আর বসে থাকলে হবে না, অনেকটা পথ যেতে হবে এখনও। শুধু ভগবান তোমার কাছে আমার একটা ই প্রার্থনা- "পরজন্মে আর যাই কোরো, মানুষ কোরো না ।"



খয়েরী রঙের পাতা


খয়েরী রঙের পাতা
===========================
ঋভু চট্টোপাধ্যায়
===========================

সকাল থেকেই হাসপাতালে ভিড়।বুধা হাসপাতালের ভিতরে না গেলেও চা খেতে আসা কয়েকজনের মুখে শুনেছে এক বুড়োকে তার ছেলে হাসপাতালের ভিতর একটা গাছের তলায় ফেলে চলে গেছে।বুড়ো শুনেই বুধার কেমন একটা সন্দেহ হয়।কালকের বুড়োটা নয় তো!

ছোট থেকে এই দোকানে আছে তখন বাবার সাথে এসে কাপ ডিশ ধুয়ে দিত।সেই থেকেই সবাই চেনে জানে। কতবার ভেঙে দেবার কথা উঠলেও আবার সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে।

যানজট


যানজট
=============================
তীর্থঙ্কর সুমিত
=============================

কতগুলো কথা
সাজিয়ে নিয়ে পাশাপাশি
বাক্য গঠন হতে হতে
হারিয়ে যায় কথাস্রোতে
আবার সৃষ্টি হয় নতুন ...
এভাবেই ফিরে আসে
পাওয়া না পাওয়ার সব ইচ্ছেগুলো
আর হারিয়ে যায়
বেঁচে থাকার রসদ
ঠিক একই ভাবে
শব্দ গঠন হয় পাশাপাশি
আর এক একটা মুহূর্তে
তৈরী হয়
##
অজস্র যানজট।



ভাঙা মন্তাজ




ভাঙা মন্তাজ
=============================
অর্পিতা ঘোষ
=============================

চুপকথা নাড়ে বুক, শুনশান রাতে,
জেগে থাকে বাতিঘর, স্তব্ধ শুন্য পথে।
খুনসুটি কোলাহল, একাকী পথেই সুখ,
নীরবতা সারারাত, এ নয় কোনো অসুখ।
উন্মাদে ভাঙে পাড়, জল ভাসে প্লাবনে,
সোহাগ শীতল রাত, ভরাডুবি হয় মনে।
অভিমানি মন তবু, করে আলোর খোঁজ,
আকাশের তারাগুলো, আমলকি হয় রোজ।
দৃষ্টি ঝাপসা হয়, একা মনের জ্বরে,
পথ দেয় হাতছানি, হারিয়ে ফেলার পরে।
দেখা যদি হয় পথে, ভরসার কোনো জন,
ঠাঁই নিয়ে তার মনে, ঠিকানা পাবো তখন।

চেনা অচেনা জ্যোৎস্না




চেনা অচেনা জ্যোৎস্না

=============================
অরুণ কুমার সরকার
=============================

তোমাকে দেখেছি সেই যৌবনে পা ফেলে
ছুটে গেছ পাহাড়ি ঝর্ণার গায়
পাহাড়ি নদীর জলে ধুয়েছো কত পা।
সমুদ্রেও গেছ তুমি
দেখেছ উত্তাল ঢেউ জোয়ারের সাথে
উৎফুল্ল হৃদয়ে নীল জলে ভাসিয়েছ গা
মিহি পরিধান ঢুকে গেছে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে।
স্বল্প বাসে সমুদ্র সৈকতে গায়ে মেখেছ মিষ্টি রোদ
পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে কতজন
তুমি থেকেছ আনমনে কালো রোদচশমায়।
হয়তো জেনে যাব একদিন
সব বাঁধন ছিঁড়ে জীবন করেছ একা
সমুদ্র সৈকতে যদি কখনও সে আসে
নিশ্চয়ই হবে দেখা।
তুমি কি ডাকবে কাছে
যদি সে আসে
আমারও তো ছিল কেউ, এখনও তা আছে
কেবলই থাকি অপেক্ষায়
যদি দেখা হয় কোনও সমুদ্র সৈকতে।
কখনও পাহাড়, কখনও বা সমুদ্র হয়ে আসে কাছাকাছি
আমি খুঁজে পাই কিছু উষ্ণতা
ভিজে যাই সময়ে অসময়ে
চারদিক জ্যোৎস্নার নীরবতা।
আমারও দুরন্ত এক অতীত ছিল
ছিল স্বপ্ন কিছু হৃদয় ভরা
যদিও তা খুব বেশি সুখকর নয়
বহু বসন্ত হয়েছে নষ্ট চেনা অচেনা জ্যোৎস্নায়।




















আলো-ছায়া




আলো-ছায়া
=============================
পরাগ ভট্টাচার্য্য
=============================

বেওয়ারিশ লাশগুলো নিয়ে যাচ্ছে!
আবর্জনা, পচন থেকে বাঁচতে!
রাতের বেলা, দশ দশটা একসাথে!
কয়েকদিনের জমা, ফেলে দিতে!
যারা ওভাবে নিয়ে গেল, কিছু বোল না,
এমনি করে ওরাই নিয়ে যায়, কুকুর -ছাগলকেও,
সংবিধান! ওরা কি পড়তে পারবে!
যারা শপথ নিয়েছে , মেনেছে একদিনও ?
ভাল করে দেখো, লুকাতে চাইছে কি,
এমনই হয়েছে বারবার, বুজরুকির চাল,
ওরা ফিরে ফিরে আসে, হায়, ভোলা মন
কখন জড়িয়ে যায় ,বুনতে বুনতে জাল ,
মরে গেলে কি কেউ কথা বলে ?
বলেছিল কেউ , মরাগুলো আবার জাগছে,
অচেনা আঙ্গুলগুলো উঠছে আকাশের দিকে
বলছে, সবাই বলছে, অবিচার হচ্ছে।



বিপন্নতা




বিপন্নতা
=============================
সম্পূর্ণা
=============================

যে জাহাজের মাস্তুলে লেখা ছিল ভয়
সে সমুদ্র কখনও জাহাজ ভাসেনি ডোবেনি
হালকা থেকে গাঢ় নীলে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে দৃশ্যের অপর্যাপ্ত আসা যাওয়া
মৃত্যুর খুলে রাখা মুকুট দৈবাৎ নজরে আসে
প্রবাহমান সবকিছুই ভীষণ প্রেডিক্টেবল দিনের ওপর
মাথা চারা দিয়ে উঠেছে ভেঙে যাওয়া সভ্যতার প্রাচীন কারুশিল্প
সময়ের কখনও পেছনে তাকানোর মতো উপায় ছিলনা
যা কিছু পিঠে থাকে, যেমন ভুল চোখ, অনাবিষ্কৃত দৃষ্টি, অথবা অন্যায়ের নিম্নগামী কৌশল
হাতের ফাঁকে লেগে থাকা ঝুরঝুরে বালিতে বহু আগের সহজ মন
মুহূর্তের ঢেউ, চোরাবালির হাতছানিতে আরও বেশি ডুবে যাওয়া
হাসতে হাসতে চলে যাওয়া রাস্তার পাশে ল্যান্ডমার্কহীন সরাইখানা
নাম লেখা খাতায় অতিথি অভ্যাগত। খালি বন্দরও যেন রাজনৈতিক শ্রমজীবী!
পৃথিবীর সীমান্তে তখনও দাঁড়িয়ে কোনো মধ্যবয়স্ক পিতা
অন্ধ শিশুকে জড়িয়ে পাহাড়ে, মরুভূমিতে, খোলা মাঠে
রাত্রির মতো ঢেউয়ে তুফানের আকাশ ছবি...!



পঞ্চপদীতে শহীদবেদীতে




পঞ্চপদীতে শহীদবেদীতে
====================================
ডঃ রমলা মুখার্জী
====================================


দেশ-রক্ষার দীক্ষায় রত শত নওজোয়ান –
মাতার মতই মাথার ছাতা তোমরা সুমহান ।
তুমুল তুফানে ঝঞ্ঝা পেরিয়ে …………
অভীক প্রহরী রয়েছো দাঁড়িয়ে ।
ধন্য ধীর, কর্মে বীর, ধন্য নওজোয়ান ।
সীমান্ত-সেনার দেশ-প্রেম খাঁটি
দাও না নিতে এক তিলও মাটি –
লড়াকু যুদ্ধ বীর
গড় শান্তির নীড় ।
সন্তর্পণে উপড়িয়ে ফেল শত্রুর সব ঘাঁটি ।
দেশের মাটিকে আঁকড়ে আদরে
মরণ-বরণ করেছো সাদরে
যত শহীদ সৈনিক
রণজয়ী নির্ভীক ।
দেশবাসীকে জড়িয়ে রেখেছো নিরাপত্তার চাদরে ।
পায়ের তলায় মজবুত ঠাঁই –
পেয়ে তোমাদের ভুলে যেন না যাই ।
দিয়েছো বন্ধু দুহাত বাড়িয়ে -
সীমান্ত পারে রয়েছো দাঁড়িয়ে
দেশের দশের ভাই, ভুলনা কোথাও নাই।



অনিশ্চিত



অনিশ্চিত
=============================
চন্দন মিত্র
=============================


নিভন্ত চুল্লি নিয়ে যে রান্নাঘরটি গন্তব্য খুঁজছে
তার পায়ে আজ কোনো ঘুঙুর নেই
তাকে যেতে হবে দূর দেশে অথচ রসদ শেষ
যে অরণ্যের ভিতর দিয়ে তার যাত্রাপথ
সেখানে তীব্র দাবানল পোড়াচ্ছে সব
তারও পরে নিভন্ত দেশে আছে শ্বাপদের দাঁত ...